সিলেটে বিয়ের ৫৩ দিনের মাথায় স্ত্রীকে ‘হ ‘ত্যা’ করে লাপাত্তা বরিশালের মামুন

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজে’লার ফুলদি এলাকার স্থা’নীয় ইউপি সদস্য সৈয়দ ফয়জুল হোসেন ফয়লার মেয়ে সৈয়দা তামান্না বেগমের ‘হ’ত্যাকারী’ স্বা’মী আল মামুন এখনও ধ’রাছোঁয়ার বাইরে।

তবে তামান্না হ’ত্যা মা’ম’লার আ’সা’মিদের মধ্যে মামুনের বোনের জামাই আ’টকের পর বর্তমানে জে’লহাজতে আছেন। সিলেট নগরীর উত্তর কাজীটুলার এলাকার অ’ন্তর’ঙ্গ ৪/এ বাসার দুতলার তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে গত সোমবার (২৩ নভ্ম্বের) দুপুর দেড়টায় নববধূ সৈয়দা তামান্না বেগমের লা’শ উ’দ্ধার ক’রে পু’লিশ।

এর আগ থেকেই তামান্নার স্বা’মী আল মামুন প’লাত’ক রয়েছেন। গত সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে তামান্নার ভাই সৈয়দ আনোয়ার হোসেন রাজা বাদি হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থা’নায় মা’ম’লা ( নং ৫৮) দা’য়ের ক’রেন। মা’ম’লায় নি’হতের স্বা’মী মো. আল মামুনসহ ৬ জনকে আ’সা’মি ক’রা হয়েছে।

অন্য আ’সা’মিরা হলেন- এম’রান, পরভীন, মাহবুব সরকার, বিলকিস ও শাহনাজ। এছাড়া অ’জ্ঞা’ত নামা আরও কয়েকজনকে আ’সা’মি ক’রা হয়েছে। মা’ম’লার তদ’ন্তভার দেয়া হয়েছে কোতোয়ালি থা’নার এস.আই মান্নানকে। তিনি আজ শনিবার (২৮ নভেম্বর) সকালে জা’নান, আ’সা’মিদের ধ’রতে জো’র’ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে পু’লিশ।

এদিকে, তামান্নার স্বা’মী আল মামুন বর্তমানে বরিশালে আত্মগো’পনে আছেন বলে একটি সূত্র জা’নায়। মামুনের গ্রামের বাড়ির (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এক প্রতিবেশি জা’নান, মো. আল মামুনের গ্রামের বাড়ি বরিশাল জে’লার বাবুগঞ্জ থা’নার হোগলারচরের পার্শ্ববর্তী গ্রাম নিয়ারচর। সেখানে তার মামা’র বাড়ি।

মামুন বর্তমানে সেখানেই আছে। মামুন ছাড়াও তার বোনসহ অন্য আ’সা’মিরাও সেখানে আছেন বলে সেই সূত্র জা’নায়। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সিলেটের গোলাপগঞ্জে’র একটি কমিউনিটি সেন্টারে আল মামুনের স’ঙ্গে বিয়ে হয় তামান্নার। মাত্র ৫৩ দিনের দিন তামান্নাকে প্রা’ণ হারাতে হয় ‘স্বা’মীর হাতে’। তামান্নাকে নিয়ে মামুন সিলেট নগরীর উত্তর কাজীটুলার এলাকার,

অ’ন্তর’ঙ্গ ৪/এ বাসার দুতলার একটি কক্ষে থাকতেন। ২৩ নভেম্বর দুপুর দেড়টায় সেই কক্ষে তালাবদ্ধ অব’স্থায় তামান্নার লা’শ প’ড়ে থাকার পর খবর পেয়ে পু’লিশ গিয়ে উ’দ্ধার ক’রে। পু’লিশের ধারণা, স্ত্রীকে হ’ত্যা ক’রে পা’লি’য়েছে স্বা’মী এবং রোববার (২২ নভেম্বর) রাতের কোনো এক সময় এই হ’ত্যাকা’ণ্ড সংগঠিত হয়েছে।

তামান্নার স্বা’মী মো. আল মামুনের জ’ন্মস্থান বরিশাল জে’লার বাবুগঞ্জ থা’নার হোগলারচরে। তবে তার ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানায় রয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বারুতখানা এলাকার নাম। যেটি ভূয়া বলে নি’শ্চিত ক’রেছে পু’লিশ। আইডি কার্ডে বাবার নাম আবুল কাশেম সরদার ও মা নাম আমম্বিয়া বেগম বলে উল্লেখ রয়েছে।

তবে সিলেটে তার মা-বাবা থাকেন না। স্বা’মীসহ তার এক বোন ও সে বসবাস করতো সিলেটে। মামুন নগরীর জিন্দাবাজারস্থ আল-মা’রজান শপিং সেন্টারের ঐশি ফেব্রিক্সের পরিচালক। মামুনের নি’হত স্ত্রী তামান্না বেগম দক্ষিণ সুরমা উপজে’লার লালাবাজার ইউনিয়নের ফুলদি গ্রামের সৈয়দ ফয়জুল হোসেন ফয়লার মেয়ে।

তবে তামান্নার ভাই-বোন এবং মা বর্তমানে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার এমসি একাডেমি সংল’গ্ন একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। তার বাবা সৈয়দ ফয়জুল হোসেন ফয়লা তাদের স’ঙ্গে থাকেন না বলে জা’না গেছে। জা’না গেছে, মামুন আগেও একটি বিয়ে ক’রেন। সে স্ত্রীর বাড়ি বরিশাল। মামুনের বি’রুদ্ধে সিলেট কোতোয়ালি থা’নায় আগের স্ত্রীর দা’য়ের ক’রা মা’ম’লাও রয়েছে।

আগের স্ত্রীর ঘরে একটি সন্তানও রয়েছে মামুনের। এসব বিষয় গো’পন ক’রে সে তামান্নাকে বিয়ে ক’রে। এ ক্ষেত্রে মামুনকে সহায়তা ক’রেন মেঘনা লাইফ ইন্সুরেন্সের শাহনাজ পারভিন নামের এক মহিলা ক’র্মকর্তা। সেই মহিলাকেও তামান্না হ’ত্যা মা’ম’লায় আ’সা’মি ক’রা হয়েছে।

জা’না গেছে, ওই মহিলা মামুনকে তার চাচাতো ভাই বলে পরিচয় দেন এবং তামান্নার পরিবারে বিয়ের জন্য পীড়াপিড়ি ক’রতে থাকেন। বিয়ের সময় টাকা দিয়েও শাহনাজ পারভিন সাহায্য ক’রেন তামান্নার পরিবারকে। এসময়ের শাহনাজ পারভিনের আচরণই আমাদের কাছে সন্দে’হজনক ছিলো। এ বিয়েতে তামান্নার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যদের অসম্মতি ছিলো। কিন্তু শাহনাজ পারভিনের পীড়াপিড়িতেই এ বিয়েটি হয়।

এছাড়াও মামুনের ভূয়া আইডি কার্ড শাহনাজই তৈরি ক’রে দিয়েছিলেন বলে অ’ভিযো’গ রয়েছে। এই শাহনাজে’র মূল বাড়িও বরিশাল। তিনি চাকরির সুবাধে সিলেটে বসবাস ক’রেন। তবে তামান্নার মৃ’ত্যুর দিন থেকে শাহনাজও গা ঢাকা দিয়েছেন। তাকেও গ্রে’ফতা’র ক’রতে অ’ভিযা’ন অব্যা’হত রেখেছে পু’লিশ।