৪ বছরে ৪৮ জন নারীর সাথে শারী’রিক স’ম্পর্ক করেছেন রানা

চাঁদপুরের সেই রসু খাঁর মতো আরেক সিরিয়াল ধ’র্ষকের সন্ধান মিলেছে নারায়ণগঞ্জে। জসিমউদ্দিন রানা নামের এ যুবক বয়স মাত্র ২০ বছর বয়সেই ভ’য়ঙ্কর সব অ’প’রাধ করেছেন একের পর এক।

গত ৫ বছরে তিনি প্রে’মের ফাঁদে ফেলে অন্তত অর্ধশত কি’শোরী ও নারীকে ধ’র্ষণ করেছেন তিনি। তাদের কারো কারো সঙ্গে বসেছিলেন বিয়ের পিঁড়িতে। পরে কলহ নিয়ে তাদেরও হ’ত্যা করেন তিনি। নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাওসার আলমের আ’দালতে ১৬৪ ধারা জবানব’ন্দিতে অর্ধশত নারীকে ধ’র্ষণ ও কথিত স্ত্রী’কে হ’ত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন রানা।

এর আগে রূপগঞ্জে ভাড়া বাসায় কথিত স্ত্রী’কে হ’ত্যা করে তার গ্রামের বাড়ি পালিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে গ্রে’ফতার করে রূপগঞ্জ থা’না পু’লিশ। জবানব’ন্দিতে তিনি জানান, ১৫ বছর বয়সে এক কি’শোরিকে প্রে’মের ফাঁদে ফেলে ধ’র্ষণ করেন জসিম উদ্দিন রানা। এভাবে একের পর এক কি’শোরীকে ধ’র্ষণ করার অ’প’রাধে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

চার বছর ধরে পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন। কিন্তু তারপরও তিনি চারিত্রিকভাবে সংশোধন হয়নি। উল্টা তার অ’প’রাধের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। বরগুনা জে’লার পাথরঘাটা থা’নার পদ্মা করমজাতলা এলাকার আব্দুল জলিলের ছে’লে এই জসিম উদ্দিন (২০)। ডাক নাম রানা। তার পাশবিক নি’র্যাতনের শিকার হয়েছে অন্তত অর্ধশত নারী।

নিজের আসল পরিচয় গো’পন করে এবং ছদ্মনামে গত চার বছরে দু’টি পাতানো বিয়ে করে সংসারও করেছেন তিনি। তার কথিত প্রথম স্ত্রী’র ঘরে রয়েছে পারভীন নামে আড়াই বছরের একটি কন্যা সন্তানও। কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী’ মাদারীপুরের সদর থা’নাধীন চরমুগুরিয়া এলাকার দেলোয়ার হোসেনের মে’য়ে সুরভী আক্তার (১৯) হ’ত্যা মা’মলায় পু’লিশের হাতে গ্রে’ফতার হন এই জসিম উদ্দিন রানা।

এরপরই বেরিয়ে আসে তার অ’পকর্মের এসব নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিষয়টি নিশ্চিত করে মা’মলার ত’দন্ত কর্মক’র্তা ভোলাব ত’দন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে উপজে’লার কাঞ্চন পৌরসভা’র কাঞ্চন দক্ষিণ বাজার এলাকার মনির মাষ্টারের বাড়ির ভাড়াটিয়া ও প্রা’ণ কোম্পানির এসআর জসিমউদ্দিন রানা তার স্ত্রী’ সুরভী আক্তার(১৯) কে শ্বা’সরোধে হ’ত্যা করে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

পু’লিশ সোমবার রাতে জসিমউদ্দিন রানার নিজ বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটার থা’নাধীন পদ্মা করমজাতলা এলাকার অ’ভিযান চালিয়ে তাকে আ’ট’ক করে। আ’ট’ক রানা নারায়ণগঞ্জ আ’দালতের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানব’ন্দি দেয়। স্বীকারোক্তিতে রানা জানান, ১৫ বছর বয়স থেকেই তার বি’কৃত যৌ’ন লালসা ছিল।

তিনি স্কুলজীবন থেকেই বিভিন্ন কি’শোরীকে প্রে’মের ফাঁদে ফেলে ধ’র্ষণ করতেন। এ কারণে এলাকা ছাড়া হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতেন রানা। তিনি যেখানেই যেতো ওই এলাকার বিবাহিত বিধবা বিপত্নীক অথবা কি’শোরীদের কথার মায়াজালে ফেলে ধ’র্ষণ করতেন।

গত ২০১৬ সালে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজে’লার নোনদা এলাকার নান্নু মিয়ার মে’য়ে নাজনীন বেগম প্রে’মের টানে তার কাছে ছুটে এলে তিনি তাকে ঘরে তুলতে বাধ্য হয়। পরে নকল কাজী দিয়ে বিয়ের নাট’ক করে নাজনীনের সাথে সংসার শুরু করেন রানা। তার দাম্পত্যে পারভীন নামে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।

গত বছর তাকে ফেলে পালিয়ে সাভা’র চলে আসেন রানা। সেখানে মোবাইলে প্রে’মের স’ম্পর্কের জেরে মাদারীপুরের সদর থা’নাধীন চরমুগুরিয়া এলাকার দেলোয়ার হোসেনের মে’য়ে সুরভী আক্তার তার কাছে ছুটে এলে আবারো নকল কাজী দিয়ে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন রানা।

কিন্ত বিয়ের ব্যাপারটি রানার কয়েকজন প্রে’মিকা টের পেয়ে যাওয়ায় তিনি গত ২ মাস পূর্বে রূপগঞ্জে চলে আসেন। এখানে প্রা’ণ কোম্পানির এসআর পদে চাকরি নিয়ে কাঞ্চন বাজারের মনির মাস্টারের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস শুরু করেন।

এদিকে তার কথিত স্ত্রী’ সুরভি নকল বিয়ে ও বহু নারীর সাথে অ’নৈতিক স’ম্পর্কের বিষয়টি টের পেয়ে তাকে আসল কাবিন করতে চাপ দেন। অন্যথায় তার পুরুষাঙ্গ কে’টে ফেলার হু’মকি দেয় সুরভী। এতে ঘাবড়ে গিয়ে রানা স্ত্রী’ সুরভীকে বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে পোলাও মাংস রান্নার করার জন্য অনুরোধ করেন।

পরে রাতে খাবারের পর কোকাকোলার সাথে নে’শাজাতীয় ট্যাবলেট খাইয়ে সুরভীকে অচেতন করে রাতেই গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে হ’ত্যা করে। পরে লা’শ ঘরে রেখে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে বরগুনায় পালিয়ে যায়। সুরভী মা’রা গেছে- সেই খবর আবার তিনি শ্বশুর দেলোয়ার হোসেনকে মোবাইলে ফোন করে জানান।

এ ঘটনায় সুরভীর বাবা রূপগঞ্জ থা’নায় হ’ত্যা মা’মলা দায়ের করেন। মা’মলার ত’দন্তে নেমে সোমবার সন্ধ্যায় পু’লিশ আধুনিক প্রযু’ক্তির সহায়তায় বরগুনার পাথরঘাটার থা’নাধীন পদ্মা করমজাতলা এলাকায় জসিম উদ্দিন রানার নিজ বাড়িতে অ’ভিযান চালিয়ে তাকে গ্রে’ফতার করে।

ত’দন্ত কর্মক’র্তা আবুল কালাম আরো জানান, গ্রে’ফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের রানা গত চার বছরে ৪৮ জন নারীর সাথে শারীরিক স’ম্পর্ক স্থাপন করেছে। তাদের মধ্যে কাউকে প্রে’মের ফাঁদে ফেলে, কাউকে আবার টাকার প্রলো’ভন দেখিয়ে ধ’র্ষণ করেছেন। আ’দালতে দেয়া ১৬৪ ধারার জবানব’ন্দিতে দ্বিতীয় স্ত্রী’কে খু’নের বর্ণনা দিয়ে তার অ’প’রাধের সবকিছু স্বীকার করেছেন। তার দুই স্ত্রী’র কারো কাছেই কোনো কাবিননামা নেই।

মূলত দ্বিতীয় স্ত্রী’ তার একাধিক নারীর সাথে অ’নৈতিক সম্পের্কর কথা জেনে যাওয়া এবং বিয়ের কাবিন করার জন্য চাপ দেয়ার কারণেই তাকে হ’ত্যা করেছেন বলে জসিম জবানব’ন্দিতে স্বীকার করেছেন। এর পাশাপাশি আরো প্রায় অর্ধশত নারীকে প্রে’মের ফাঁদে ফেলে ধ’র্ষণের কথাও তিনি আ’দালতে স্বীকারোক্তি দেন।

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থা’নার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান বলেন, স্ত্রী’কে হ’ত্যার দায় স্বীকার করে আ’সামি জসিম উদ্দিন রানা আ’দালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানব’ন্দি প্রদান করেছেন। ঘা’তক রানার অন্য অ’পকর্মগুলোর ব্যাপারে ত’দন্ত করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।